রাশিয়ার তেল কেনায় মার্কিন শুল্ক ৫০%: অর্থনীতি ও কূটনীতিতে বড় ধাক্কায় ভারত
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
তারিখ: ৯ আগস্ট ২০২৫
রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানির কারণে ভারতের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বুধবার দেওয়া এই ঘোষণায় বলা হয়েছে, ভারতীয় পণ্যের ওপর মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক ২০২৫ সালের ২৭ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে। এর ফলে ভারতের রপ্তানি খাত ও সামগ্রিক অর্থনীতি বড় ধাক্কার মুখে পড়তে চলেছে।
ভারত সরকার এই পদক্ষেপকে ‘অন্যায়’ ও ‘অযৌক্তিক’ বলে আখ্যায়িত করেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্কিন বাজারে ভারতের ৮৭ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি কার্যত প্রতিযোগিতার বাইরে চলে যাবে। অধিকাংশ রপ্তানিকারক সর্বোচ্চ ১০–১৫% পর্যন্ত শুল্কবৃদ্ধি সহ্য করতে পারলেও ৫০% শুল্ক তাদের জন্য “অসহনীয়” হবে।
জাপানি ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান নোমুরা তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এই পদক্ষেপ ভারতের বিরুদ্ধে কার্যত একটি বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা হিসেবে কাজ করবে। ভারতের মোট রপ্তানির ১৮% যুক্তরাষ্ট্রে যায় এবং জিডিপির প্রায় ২.২% আসে মার্কিন বাজার থেকে। শুল্কের ফলে প্রবৃদ্ধি ০.৪% পর্যন্ত কমে যেতে পারে এবং ৬%–এর নিচে নামার ঝুঁকি থাকবে।
যদিও ইলেকট্রনিকস ও ফার্মাসিউটিক্যালস আপাতত শুল্কমুক্ত, তবুও টেক্সটাইল ও গয়না শিল্প মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তামিলনাডুর তিরুপুরে তৈরি পোশাক শিল্প ও গুজরাটের সুরাটে হীরার গয়নার কারখানাগুলোতে ব্যাপক ছাঁটাইয়ের আশঙ্কা রয়েছে। ভারতের কনফেডারেশন অব টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি জানিয়েছে, মার্কিন বাজারে তাদের প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা অন্য দেশের কাছে চলে যেতে পারে।
ট্রাম্পের এই শুল্ক ঘোষণার পর অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, ভারত রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে কৌশলগত ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে পারে। আগামী দিনে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করবেন—যা ২০২০ সালের গালওয়ান উপত্যকার সংঘর্ষের পর প্রথম।
পররাষ্ট্রনীতির বিশ্লেষকরা বলছেন, অভিন্ন প্রতিপক্ষ যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ভারত, চীন ও রাশিয়াকে একটি কৌশলগত ত্রিপক্ষীয় সমীকরণের দিকে ঠেলে দিতে পারে। তবে ভারত–চীন সম্পর্কের বিদ্যমান উত্তেজনা এই প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি করতে পারে।
রাশিয়া বর্তমানে ভারতের প্রধান অপরিশোধিত তেল সরবরাহকারী দেশ হলেও আন্তর্জাতিক তেলের দামের ব্যবধান কমে যাওয়ায় (প্রতি ব্যারেলে সাশ্রয় মাত্র ৩–৪ ডলার) ভারত ধীরে ধীরে রাশিয়ার ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে পারে। তবে শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী মোদি ও প্রেসিডেন্ট পুতিন টেলিফোনে কথা বলে “বিশেষ কৌশলগত অংশীদারত্ব” বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
মার্কিন শুল্ক ঘোষণার আগে পর্যন্ত যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যচুক্তিকে “হাতের নাগালে” মনে করা হচ্ছিল, তা এখন অনিশ্চয়তায়। এই মাসের শেষ দিকে একটি মার্কিন প্রতিনিধিদল দিল্লি সফরে আসবে আলোচনার জন্য। ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় ব্যাংক গভর্নর উর্জিত প্যাটেল সতর্ক করে বলেছেন, চুক্তি ভেস্তে গেলে পরিস্থিতি পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যযুদ্ধে গড়াতে পারে।
বিতর্কিত ইস্যুগুলোর মধ্যে রয়েছে—
ভারতের কৃষি ও দুগ্ধ খাত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য উন্মুক্ত করা হবে কি না
মার্কিন পণ্যে পাল্টা শুল্ক আরোপের সম্ভাবনা
রপ্তানিকারকদের জন্য ভর্তুকি বা প্রণোদনা প্যাকেজ
১৯৫০–১৯৯০: ভারত–মার্কিন বাণিজ্য ছিল সীমিত; শীতল যুদ্ধকালে ভারত সোভিয়েত ঘনিষ্ঠ ছিল।
১৯৯১–২০০৫: অর্থনৈতিক উদারীকরণের পর যুক্তরাষ্ট্র ভারতের শীর্ষ রপ্তানি বাজারে পরিণত হয়।
২০০৮–২০২০: কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার হলেও ট্রাম্প প্রশাসনের আমলে একাধিক শুল্কবৃদ্ধি ও বাণিজ্য বিরোধ দেখা দেয়।
২০২২–২০২৪: রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের সময় ভারত রাশিয়া থেকে ডিসকাউন্টে তেল কিনে, যা পশ্চিমা দেশগুলোর সমালোচনা কুড়ায়।
২০২৫: রাশিয়ার তেল কেনার কারণ দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ভারতের ওপর ৫০% শুল্ক আরোপ করে।
অর্থনৈতিক ঝুঁকি: ভারতের প্রধান রপ্তানি বাজারে প্রতিযোগিতা হারালে প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে টানাপোড়েন ভারতের জন্য নতুন কৌশলগত অংশীদার খোঁজার সুযোগ তৈরি করলেও পুরনো বিরোধ জটিলতা বাড়াতে পারে।
অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ: কৃষি ও দুগ্ধ খাত নিয়ে মার্কিন দাবি মেনে নেওয়া ভারতের রাজনীতিতে অত্যন্ত সংবেদনশীল ইস্যু।
পাল্টা প্রতিক্রিয়া: ইতিহাসে ভারত পূর্বে পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে (২০১৯ সালে ২৮টি মার্কিন পণ্যে), তবে এবার একই পদক্ষেপ নেবে কি না তা অনিশ্চিত।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
বিবিসি – যুক্তরাষ্ট্র–ভারত বাণিজ্য শুল্ক সংকট, আগস্ট ২০২৫
নোমুরা রিসার্চ, বার্কলেস রিসার্চ – শুল্ক প্রভাব বিশ্লেষণ
ভারত সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় – রপ্তানি ও জিডিপি তথ্য
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |